26 August, 2020

Govt Jobs

admin

68 views


বাতাসে সুমির শরীরের ঘ্রান এসে আসড়ে পড়ছে লোকটার নাকে।সুমির শরীরের ঘ্রান যেনো লোকটিকে নেশাগ্রস্ত করে দিচ্ছে।সুমিকে দেখে যেনো লোভ সামলাতে পারছে না এমন অবস্থা লোকটার। রক্তের পিপাসা যেনো জেকে বসেছে লোকটার মনে।লোকটা ধির পায়ে সুমির পাশে যেয়ে বসলো।তরপর মুখ রহস্যময় এক হাসি ফুটিয়ে তুললো।

লাল টুকটুকে চোখ দুটো সামনে শিকার পেয়ে যেনো চকচক করছে।ঠোঁট ভেদ করে শুচের মতো সুচালো চিকুন চিকুন দুটো দাঁত বাইরে বেরিয়ে এসেছে। আর সেই দাঁত নিয়ে আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছে সুমির গলার দিকে সুমির শরীরের ঘ্রান যেনো লোকটা কে আরও বেশি টানছে তার দিকে। লোকটা আর এক মুহূর্ত দেরি না করে সুমির গলায় নিজের সুচের মতো চিকুন দাঁত দুটো বসাতে গ্যালো।

আর তখনই সুমি ঘুমের মাঝেই লোকটা কে টেডিবিয়ার ভেবে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরলো। সুমির এমন কাজে লোকটার রক্তের পিপাসা নিমিষেই হারিয়ে গ্যালো।লোকটা সুমির ঘুমন্ত মুখের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। সুমির ঘুমন্ত মুখ দেখে লোকটার মনে একরকম ভালো লাগা কাজ করছে।কিন্তু মুহূর্তেই লোকটার চোখ দুটি লাল রক্ত বর্ণ ধারন করলো।

এই মুহূর্তে লোকটার রক্ত চাই,, চাই। আর তাই সে নিজের ভালো লাগা কে প্রাধান্য না দিয়ে পুনরায় সুমির গলার দিকে এগিয়ে যাওয়া শুরু করলো। হঠাৎ করে সুমির ঘুম ভেঙ্গে যায়।আর রুমের ডিম লাইটের আলোতে লোকটার ভয়ংকর চেহারা দেখে সুমি ভয়ে চোখ বন্ধ করে খুব জোরে চিৎকার করতে থাকে। সুমি সব সময় ওর রুমের দরজা খোলা রেখে ঘুমায় তাই আর আলাদা ভাবে সুমির আম্মু কে ডাকতে হয় নি।

সুমির চিৎকার শুনেই পাশের রুম থেকে ওর আম্মু দ্রুত ছুটে আসে ওর রুমে।আর রুমে এসে দেখে সুমি বিছানার একপাশে চোখ বন্ধ করে বাচ্চাদের মতো ভয়ে গুটিশুটি মেরে বসে আছে আর চিৎকার করছে। তারপর সুমির আম্মু মেয়ের কাছে যেয়ে পাশে বসে মাথায় হাত বলিয়ে দিয়ে মেয়ে কে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বলে।

আম্মু: মামনি কি হয়েছে তোর??এভাবে চিৎকার করছিস ক্যানো মামনি??চোখ খোল এই দেখ আমি তোর আম্মু। মায়ের কথা শুনে সুমি চোখ মেলে তাকালো। তারপর মা কে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলো।আর বলতে শুরু করলো। সুমি:আম্মু আমি রাক্ষস দেখেছি।আমার রুমে রাক্ষস এসেছিলো।আমাকে খেতে এসেছিলো।

সুচের মতো চিকুন লন্বা লম্বা দাঁত রাক্ষসটার। সুমির আম্মু মেয়ের মুখে রাক্ষসের কথা শুনে সুমির মাথায় হাত বলিয়ে দিয়ে বললো। আম্মু:দুর পাগলি মেয়ে, তুই হয়তো স্বপ্ন দেখেছিস মামনি।দেখ তোর রুমে আমি আর তুই ছাড়া অন্য কেউ নেই।আর বাড়ির সদর দরজা ও রুমে জানালা দেওয়া আছে তাহলে রাক্ষস কিভাবে আসবে।আর সব থেকে বড়ো কথা হলো যে রাক্ষস বলতে কিছুই হয় না।তুই তখন নিউজে ঐ সব দেখেছিস তাই হয় তো স্বপ্নে এসব দেখে ভায় পাচ্ছিস।ভয় পাই না মামনি এইতো আমি তোর পাশেই আছি।

সুমি ওর আম্মুর কথা শুনে ভয়ে ভয়ে চোখ মেলে সামনে তাকায় তারপর রুমের চার দিকে একবার চোখ বুলিয়ে দেখে রুমে কিছুই নেই আর জানালাও বন্ধ করা। তারপরও সুমির মনের কোনে এক অযানা ভয় কাজ করছে তাই সুমি ওর আম্মু কে উদ্দেশ্য করে বললো। সুমি:আম্মু আমার ক্যামন যেনো ভয় ভয় লাগছে আজ রাতে তুমি আমার রুমে আামর পাশে থাকো। আম্মু:আচ্ছা মামনি আজ রাতে তোর কাছে থাকবো।তুই শুয়ে পড় আমি আমার রুমের জরদা টা দিয়ে তোর রুমে আসছি।

সুমি:তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো আম্মু, তাড়াতাড়ি আসবে কিন্তু তুমি আসলে তারপর তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমাবো। সুমির আম্মু মেয়ের এমন বাচ্চামি আবদার শুনে মুচকি হেসে সুমির কপালে চুমু একে দিয়ে বললো। আম্মু:আচ্ছা মামনি আমি এই যাবো আর আসবো।তারপর তুই আমার কোলে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে ঘুমাবি। এই বলে সুমির আম্মু নিজের রুমে গেলো আর সুমি মুচকি হেসে বললো।

সুমি:আমি অনেক ভাগ্যবতী যে আল্লাহ তায়ালা আমাকে তোমাদের মতো মা-বাবার সন্তান হিসাবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।তোমাদের মতো মা- বাবা পেয়ে আমি হাজার শুকরিয়া আদায় করি আল্লাহ তায়ালার নিকট। সুমি কথা গুলো শেষ করতে না করতেই সুমির আম্মু ওর রুমে এসে রুমের দরজা ভিতর থেলে লক করে দেয়। আম্মু কে জরদা লক করতে দেখে সুমি ওর আম্মু কে উদ্দেশ্য করে বললো।

সুমি:আম্মু জরদা লক করছো ক্যানো??আমার রুমের জরদা তো রাতের বেলা খোলাই থাকে তাহলে আজ লক করছো ক্যানো?? মেয়ের এমন প্রশ্ন বোধক কথা শুনে জরদা থেকে সুমির পাশে এসে বসে আর সুমির মাথায় হাত বলিয়ে দিয়ে বলে। আম্মু:দরজা লক করার কারন হলো।আজ আমার মিষ্টি মামনি টা তার আম্মুর কোলে মাথা রেখে ঘুমাবে তাই আজ দরজা লক করলাম তাছাড়া আমি তো তোর পাশেই থাকবো আজ রাতে। সুমি ওর আম্মুর কথা শুনে আম্মুকে জড়িয়ে ধরে আদুরে গলাই বললো। সুমি:তুমি পৃথিবীর সেরা আম্মু। আম্মু:আর তুই আমার লক্ষী মেয়ে। আর একটা কথা, মামনি পৃথিবীর সব আম্মুরাই সেরা হয়।এখন আর কোনো কথা না মামনি অনেক রাত হয়েছে।

আমার কোলে মাথা রেখে ঘুমা কাল আবার কলেজ আছে তো তোর। সুমি ওর আম্মুর কথা শুনে বাদ্ধ মেয়ের মতো চুপচাপ মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লো আর সুমির আম্মু মেয়ের মাথায় হাত বুলাতে শুরু করলো।এভাবে কিছুক্ষণ হাত বুলানোর পর সুমির আম্মু খেয়াল করে সুমি ঘুমায়ে পড়েছে। তাই সুমিকে বিছানায় ভালো ভাবে শুয়ায়ে দিয়ে ওর আম্মু বিছানা থেকে উঠে রুমের লাইট অফ করে মেয়ের পাশে যেয়ে শুয়ে পড়ে। তারপর মা ও মেয় দুজন ঘুমের দেশে পাড়ি দেই।

ওপর দিকে একটা লোক জঙ্গলের ভিতরে বড় একটা গাছের নিচে পায়চারি করছে।রাগে লোকটার শরীর কেপে কেপে উঠছে আর চোখ দুটো লাল বর্ন ধারন করেছে। হঠাত কোথা থেকে একটা মেয়ে উড়ে এসে নামলো সাথে সাথে লোকটা পিছনে তাকালো আর পায়চারি করা বন্ধ করে দিয়ে মেয়ে টার দিকে তাকালো। মেয়ে টা কে দেখা মাত্রই লোকটার রাগ সত্তম আসমান উঠে গ্যালো।

মেয়ে টা লোকটার এমন রাগি লুক দেখে ভয়ে ঢোক গিলে উত্তেজিত হয়ে বললো। মেয়েটি:ভাইয়া তোমার কি হয়েছে??তুমি এমন করছো ক্যানো??তুমি যানো তোমাকে প্রাসাদে দেখতে না পেয়ে কতটা চিন্তাই পড়ে গিয়েছিলাম??আর তুমিতো রাতে আমাকে সাথে না নিয়ে একা একা কখনো বাইরে বের হও না আজ তাহলে একা বেরোলে ক্যানো?? মেয়েটি এক নিশ্বাসে কথা গুলো বললো।লোকটা মেয়েটার কথা শুনে হাত মুঠো করে চোখ বুজে নিজের রাগ কন্ট্রোল করলো। তারপর মেয়ে টাকে উদ্দেশ্য করে বললো.